আজকে আমরা কাপড়ের শক্তি পরিমাপের টেকনিক সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর কাপড়ের টেনসাইল গুণাবলির অন্তর্গত।

কাপড়ের শক্তি পরিমাপের টেকনিক (Techniques of fabric strength measurement)
কাপড়ের ইংরেজি শব্দ ‘টেক্সটাইল’ এসেছে ল্যাটিন বিশেষণ টেক্সটিলিস, থেকে যার অর্থ ‘বোনা’, টেক্সটাস থেকে যা ক্রিয়া টেক্সেরে’র পাস্ট পার্টিসিপিল যার অর্থ বোনার জন্য।
কাপড়ের শক্তি নির্ণয়ের জন্য টেস্টিং মেথড এবং যন্ত্রপাতি নির্বাচন অত্যন্ত ব্যাপক বিষয়। কাপড়ের শক্তি একটি জটিল বিষয়। কাপড়ের শক্তি বলতে সরাসরি সোজা সমান্তরাল টেনসাইল স্ট্রেংথ (Tensile strength), টিয়ারিং স্ট্রেংথ (Tearing strength), অ্যাব্রাসন এবং ওয়্যার রেজিস্ট্যান্স (Abrasion and wear resistance). বাস্টিং স্ট্রেংথ (Bursting strength) ইত্যাদি বুঝায়। কোন কাপড়ের সর্বশেষ ব্যবহার বিচার বিশ্লেষণ দ্বারা অর্থাৎ এটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। তার উপর ভিত্তি করে উক্ত কাপড়ের শক্তি পরিমাপ মেথড নিরূপণ করা হয়। এ ছাড়াও কাপড়ের ধরন ও উপযোগিতার ভিত্তিতেও উক্ত কাপড়ের শক্তি নির্ণয় পদ্ধতি নিরূপিত হয়ে থাকে ।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, অতি সাধারণ ড্রেস ম্যাটেরিয়াল যেমন- শার্টিং (Shirtung), স্যুটিং (Suiting) ইত্যাদি কাপড়ের জন্য টেনসাইল স্ট্রেংথ পরীক্ষা করা হয়। আবার শ্রমিকদের পোশাক হিসাবে ব্যবহৃত কাপড়ের জন্য ওয়্যার এবং অ্যাব্রোসন রেজিস্ট্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার রিবন, টেপ ব্যান্ডেজ কাপড়, ইনসুলেশন টেপ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত কাপড়ের জন্য টিয়ারিং টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া প্যারাসুট কাপড়, ফিল্টার ক্লথ, নেট এবং নিটেড কাপড়ের জন্য বাস্টিং টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ ।

তাই যে কোন টেস্ট করার পূর্বে কাপড়টি কী কাজে ব্যবহৃত হবে তার ব্যাখ্যা থাকা একান্ত প্রয়োজন। আর সে বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই কাপড়ের টেস্টিং মেথড ও যন্ত্রপাতি নির্বাচন করা আবশ্যক। ফলশ্রুতিতে উক্ত কাপড়ের কার্যকারিতার ব্যাপারে একটি পরিষ্কার ধারণা লাভ করা সম্ভবপর হয়।