আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-স্পিনিং সিস্টেমের বর্ণনা
স্পিনিং সিস্টেমের বর্ণনা
স্পিনিং সিস্টেমের বর্ণনা (Discuss spinning system) :
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে টেক্সটাইলস্ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজেই খুব সামান্য হলেও টেক্সটাইল সম্বন্ধে প্রত্যেকের কিছু না কিছু জানা প্রয়োজন । তাতে ব্যবহারকারীগণ অর্থাৎ আমরা কিছুটা লাভবান হব।
কাপড় তৈরির জন্য সুতার প্রয়োজন, আর এই সুতা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ফাইবার ব্যবহার করা হয়। আমরা প্রাকৃতিকভাবে অনেক আঁশ দেখতে পাই, কিন্তু সব আঁশই টেক্সটাইল ফাইবার নয়। টেক্সটাইল ফাইবার হতে হলে আঁশে ন্যূনতম দৈর্ঘ্য, শক্তি, সূক্ষ্মতা, নমনীয়তা, আর্দ্রতা, ধারণ ক্ষমতা ইত্যাদি অর্থাৎ সুতা তৈরির গুণাবলি থাকতে হবে।

আধুনিককালে প্রযুক্তি বিকাশের সাথে সাথে টেক্সটাইল ফাইবারের ও টেক্সটাইল সামগ্রীর উন্নতি হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের কাছে টেক্সটাইল দ্রব্যাদি সহজলভ্য হচ্ছে। পুরো স্পিনিং পদ্ধতিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক আঁশসমূহ স্পিনিং করার জন্য ছোট দৈর্ঘ্যের আঁশসমূহকে ও বড় দৈর্ঘ্যের আঁশসমূহকে প্রক্রিয়াকরণের দিক থেকে আলাদা করা হয়েছে।
আবার কৃত্রিম আঁশসমূহ ফিলামেন্ট আকারে উৎপাদনের জন্যও আলাদা পদ্ধতিতে স্পিনিং করা প্রয়োজন। প্রাথমিক অবস্থায় কৃত্রিম ফাইবার ফিলামেন্ট আকারে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এটা বিভিন্নভাবে আলাদা করা হয় । দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন ফাইবারকে ফিলামেন্ট বলা হয়।

ফিলামেন্ট দুইভাবে ব্যবহার করা হয়, মনোফিলামেন্ট ও মাল্টিফিলামেন্ট। যদি এককভাবে ১টি ফিলামেন্ট সুতা হিসেবে ব্যবহার করা হয় তা মনোফিলামেন্ট আবার একাধিক ফিলামেন্টকে একত্রিতভাবে বা পাক দিয়ে সুতা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তখন একে মাল্টিফিলামেন্ট বলে।
প্রাকৃতিকভাবে শুধু রেশম ফাইবারকেই ফিলামেন্ট আকারে পাওয়া যায়। কিন্তু, কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সকল প্রকার ফাইবারই রাসায়নিক পদার্থ থেকে উৎপত্তি। প্রতিটি ফাইবারই স্পিনারেটের ছিদ্র দ্বারা লম্বা অবিচ্ছিন্নভাবে তৈরি হয় অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তৈরি স্পিনারেট থেকে টেনে বের করা ফাইবারগুলোকে ফিলামেন্ট বলা হয় ।
চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রেখে কিছু কিছু ফিলামেন্ট হিসেবে ফাইবারকে প্রয়োজনমতো কেটে ছোট ছোট টুকরা অর্থাৎ স্ট্যাপল আকারে নিয়ে স্ট্যাপল সুতা তৈরি করা হয়। টেক্সটাইল ফাইবারের স্ট্যাপল লেন্থ সাধারণত ১ সেন্টিমিটারের কম র না। স্ট্যাপল ফাইবার সাধারণত প্রাকৃতিক, কৃত্রিম ও ফিলামেন্ট হিসেবে পাওয়া যায়। সুতা তৈরি বা সুতা পাকানোর
জন্য ফাইবারের দৈর্ঘ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক সব ফাইবারই স্ট্যাপল আকারে পাওয়া যায়। শুধু প্রাকৃতিক রেশম ফাইবার ফিলামেন্ট আকারে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক যেসব ফাইবার পাওয়া যায় তা বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে।
সাধারণত ফাইবারের দৈর্ঘ্যের উপর আঁশের গুণাগুণ অনেকাংশে নির্ভর করে। দৈর্ঘ্যে বড় আঁশ অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও কাঠের বা প শক্ত হয়ে থাকে। আবার ছোট দৈর্ঘ্যের আঁশের সুতা তৈরির ক্ষমতা কম থাকে। সব প্রাকৃতিক আঁশসমূহকে দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

ছোট দৈর্ঘ্যের আঁশসমূহকে শর্ট স্ট্যাপল (Short staple) এবং বড় দৈর্ঘ্যের আঁশসমূহকে লং স্ট্যাপল ( Long staple) এভাবে ভাগ করা হয়েছে। স্পিনিং পদ্ধতির সুবিধার জন্য শর্ট স্ট্যাপল আঁশসমূহের স্পিনিং পদ্ধতি ও লং স্ট্যাপল আঁশসমূহের স্পিনিং পদ্ধতি কিছুটা আলাদা।
কাজেই পরবর্তীতে প্রাকৃতিক আঁশসমূহ স্পিনিং পদ্ধতির দিক থেকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করে স্পিনিং সিস্টেমকে দুই মেরুতে নিয়ে স্পিনিং পদ্ধতির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আবার কৃত্রিম আঁশসমূহও ফিলামেন্ট থেকে স্ট্যাপল আকারে নিয়ে শর্ট স্ট্যাপল স্পিনিং এর মতো সুতা তৈরির জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।