আজকে আমরা আলোচনা করবো সংকোচন পরিমাপ সম্পর্কে। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর সংকোচন এর অন্তর্গত।

সংকোচন পরিমাপ (Describe the method of shrinkage measurement)
কাপড় সংকোচন অর্থাৎ কাপড় চেপে যাওয়া, মানে আগের তুলনায় একটু ছোট হয়ে যাওয়া। আমরা যে কোন কাপড়ই ব্যবহার করি না কেন কাপড় ব্যবহারের ফলে কোন না কোন ভাবে কাপড়র্টি মাপে একটু ছোট হয়ে যায় অর্থাৎ সংকোচন হয়ে যায়। মূলত এটাই কাপড় সংকোচন।
কাপড়ের সংকোচন পরীক্ষা সাধারণত ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ডুবিয়ে রেখে বা বিশেষ ধরনের ওয়াশিং মেশিনে করা হয়ে থাকে।

নিচে ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ডুবিয়ে রেখে এর সংকোচন পরীক্ষা পদ্ধতি বর্ণনা হলো
১। নমুনা প্রস্তুতকরণ (Sample preparation)
যে কাপড়ের সংকোচন পরীক্ষা করা হবে তাকে ২৪ ঘন্টা কন্ডিশনিং করে নিতে হবে। এরপর অমোচনীয় কালি দ্বারা কাপড়ের টানা ও পড়েন উভয় দিকে ৩ জোড়া দাগ দিতে হবে। এর কাপড়টি একটি কাঁচের উপর রেখে তার উপর আর একটি কাচের প্লেট চাপ দিয়ে খুব সতর্কতার সাথে টানা ও পড়েন উভয় দিকের দূরত্ব মাপা হয়।
২। ধৌতকরণ (Washing) :
নমুনাটিকে চ্যাপ্টাভাবে ২ ঘণ্টা বিশুদ্ধ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। কাপড় সম্পূর্ণ ডুবে থাকার জন্য প্রয়োজনে কাপড়ের উপর ওয়ান প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩। শুষ্ককরণ (Drying) :
ধোয়ার কাজ শেষ হলে কাপড়কে ঝাকিয়ে অতিরিক্ত পানি দূর করে হাত দ্বারা নিংড়িয়ে পরে শুকানো হয়।

৪। কন্ডিশনিং এবং পুনরায় মাপ নেয়া (Conditioning and remeasuring) :
নমুনাটি শুকানোর পর ২৪ জন্ডিশনিং করা হয়। এরপর পূর্বের মত দুটি কাঁচের প্লেটের মাঝখানে কাপড় সমানভাবে বিছিয়ে মাপ নেয়া হয় এবং নিচের সূত্রের সাহায্যে সংকোচনের শতকরা হার নির্ণয় করা হয়।
সংকোচন S = (L0 – L1)/L0 x 100
এখানে, S = সংকোচনের শতকরা হার
L0 = ধোয়ার পূর্বে নমুনার দৈর্ঘ্য
L1 = ধোয়ার পরে নমুনার দৈর্ঘ্য।
এভাবে পাঁচবার পরীক্ষা করে গড়মান নেয়া হয়।